দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গরমের দিনে রসালো লিচু দেখলে লোভ সামলানো কঠিন। মিষ্টি আর হালকা টক স্বাদের এই ফল অনেকেরই পছন্দের তালিকায় থাকে। তবে ইন্ডিয়ান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিক্স (আইএপি)-এর বিহার শাখার প্রাক্তন সভাপতি এবং সিনিয়র শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. অরুণ শাহ বলেন, এই জনপ্রিয় ফল খাওয়ার ক্ষেত্রেও কিছু সতর্কতা জরুরি। বিশেষ করে খালি পেটে লিচু খাওয়া শরীরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে সেই ঝুঁকি আরও বেশি।
কেন খালি পেটে লিচু খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ:
চিকিৎসকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, লিচুতে প্রাকৃতিকভাবে কিছু রাসায়নিক উপাদান থাকে। এর মধ্যে ‘হাইপোগ্লাইসিন এ’ এবং ‘এমসিপিজি’ নামের দুটি উপাদান শরীরে গ্লুকোজ তৈরির প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
খালি পেটে লিচু খেলে শরীরে আগে থেকেই শক্তির ঘাটতি থাকে। তখন এই উপাদানগুলো রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত কমিয়ে দেয়। এর ফলে শরীরে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, বমি এমনকি মস্তিষ্কের কার্যক্রমেও সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের শরীর এই পরিস্থিতি সামলাতে পারে না। কারণ তাদের শরীরে প্রয়োজনীয় শক্তির মজুত তুলনামূলক কম থাকে।
এনসেফালাইটিসের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্ক তৈরি হয়:
চিকিৎসকদের মতে, লিচুর বিষক্রিয়া থেকে তৈরি হওয়া মারাত্মক হাইপোগ্লাইসেমিয়া অনেক সময় মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে। এর ফলে খিঁচুনি, অচেতন হয়ে যাওয়া বা কোমার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশ, ভারত, ভিয়েতনাম ও জ্যামাইকার মতো কয়েকটি দেশে অতীতে লিচুর মৌসুমে শিশুদের মধ্যে অ্যাকিউট এনসেফালাইটিস সিনড্রোমে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা দেখা গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর বেশি পরিমাণ লিচু খেলে ঝুঁকি বাড়ে।
চিকিৎসকদের মতে, কিছু মানুষ অন্যদের তুলনায় বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। যেমন-
__১৫ বছরের কম বয়সি শিশু __অপুষ্টিতে ভোগা ব্যক্তি __যারা দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকেন __যারা খাবার বাদ দিয়ে শুধু ফল খেয়ে থাকেন
যেসব লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে প্রাথমিক লক্ষণ-
__বমি __অতিরিক্ত ঘাম __দুর্বল লাগা __মাথা ঘোরা
গুরুতর লক্ষণ-
__খিঁচুনি __বিভ্রান্তি __অচেতন হয়ে যাওয়া __কোমায় চলে যাওয়া
এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কেএম